মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন
“ইসরায়েলি হামলা ও গণহত্যা মানবতার কলঙ্ক, মুসলিমবিশ্ব জাগো—এবার ইরানের পাশে দাঁড়াও।”
অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকার রাজপথ। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। মুসলিমবিশ্বের নিরবতা ভেঙে সাহসিকতার সঙ্গে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করে খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা।
‘আমার ভাই মরল কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই’, ‘মুসলিম জাগো, প্রতিরোধ গড়ো’—এই ধরনের জ্বালাময়ী স্লোগানে মুখরিত হয় রাজধানীর রাজপথ। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় আরও কয়েকটি ইসলামি সংগঠন। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিন বা ইরান নয়, গোটা মুসলিমবিশ্বের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘‘ইসরায়েল একটি অবৈধ রাষ্ট্র, যারা যুগের পর যুগ ফিলিস্তিনে রক্তস্নান চালিয়ে আসছে। এবার তারা আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ইরানে হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করেছে। এই বর্বরতা মানবতাকে লজ্জিত করেছে।’’
তিনি আরও বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) অবিলম্বে জরুরি অধিবেশন ডেকে ইরানের প্রতি সংহতি ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে আরববিশ্বের উচিত এক কণ্ঠে কথা বলা ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আজিজুল হক এবং বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা মার্কিন সমর্থনে ইসরায়েলের আগ্রাসন চালানোর ঘটনাকে ‘শান্তিপ্রেমী জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেন।
তাঁরা আরও বলেন, “যারা আজ ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা মানবতার বিপক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। ট্রাম্প থেকে শুরু করে পশ্চিমা প্রভুরা যে উন্মত্ততায় চলেছে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে বাধ্য।”
বিক্ষোভকারীরা শেষ পর্যন্ত একটাই বার্তা তুলে ধরেন—“এই যুদ্ধ শুধু ফিলিস্তিন বা ইরানের নয়, এটি মুসলিম চেতনার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, প্রতিবাদের আগুনকে দাবানলে পরিণত করার।”